পোষণ ট্র্যাকার কী? অপুষ্টি রোধে ডিজিটাল বিপ্লব, জানুন Poshan Tracker-এর সুবিধা, বৈশিষ্ট্য ও সরকারের নতুন উদ্যোগ
Poshan Tracker : ভারতে অপুষ্টি মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনের এক নতুন অধ্যায়ের নাম পোষণ ট্র্যাকার (Poshan Tracker)। মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রকের উদ্যোগে চালু হওয়া এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের অঙ্গনওয়াড়ি পরিষেবার পুষ্টি সংক্রান্ত তথ্য প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। আধারভিত্তিক যাচাইকরণ, ফেসিয়াল রিকগনিশন, শিশুদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ এবং রিয়েল-টাইম ড্যাশবোর্ডের মতো আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় পুষ্টি পরিষেবা আরও স্বচ্ছ, দ্রুত ও কার্যকর হয়েছে।
Poshan Tracker(পোষণ ট্র্যাকার) কী?
পোষণ ট্র্যাকার একটি মোবাইল-ভিত্তিক প্রশাসনিক অ্যাপ্লিকেশন, যা সক্ষম অঙ্গনওয়াড়ি ও পোষণ ২.০ কর্মসূচির ডিজিটাল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। ২০২১ সালের মার্চ মাসে মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রক এবং ন্যাশনাল ই-গভর্ন্যান্স ডিভিশনের যৌথ উদ্যোগে এই অ্যাপ চালু হয়।
এর মাধ্যমে দেশের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো, শিশুদের পুষ্টির অবস্থা, অন্তঃসত্ত্বা ও স্তন্যদায়ী মায়েদের পরিষেবা এবং সম্পূরক পুষ্টি কর্মসূচির অগ্রগতি একক প্ল্যাটফর্মে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ পোষণ ট্র্যাকার?
আগে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের ১১টি হাতে লেখা রেজিস্টার সংরক্ষণ করতে হতো। ফলে তথ্য বিশ্লেষণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং পরিষেবা পৌঁছে দিতে অনেক সময় লাগত।
বর্তমানে পোষণ ট্র্যাকারের(Poshan Tracker) মাধ্যমে—
- রিয়েল-টাইম তথ্য সংগ্রহ সম্ভব হচ্ছে।
- ভুয়ো নথিভুক্তি কমেছে।
- তথ্যভিত্তিক নীতি নির্ধারণ সহজ হয়েছে।
- শিশুদের অপুষ্টির ঝুঁকি দ্রুত শনাক্ত করা যাচ্ছে।
- জেলা, রাজ্য ও জাতীয় স্তরে তাৎক্ষণিক ড্যাশবোর্ডে তথ্য দেখা যাচ্ছে।
পোষণ ট্র্যাকারের প্রধান বৈশিষ্ট্য
এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রয়েছে একাধিক আধুনিক সুবিধা।
আধারভিত্তিক যাচাইকরণ
উপভোক্তার পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যমে ভুয়ো নথিভুক্তি রোধ করা হচ্ছে এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পরিষেবা পৌঁছানো নিশ্চিত হচ্ছে।
ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম (FRS)
পরিষেবা শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছেছে কিনা তা যাচাই করতে মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
পোষণ ক্যালকুলেটর
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী শিশুদের উচ্চতা, ওজন, বয়স ও লিঙ্গ বিশ্লেষণ করে অপুষ্টি, কম ওজন, খর্বাকৃতি ও অতিরিক্ত ওজন নির্ণয় করা হয়।
স্মার্ট হোম ভিজিট
অন্তঃসত্ত্বা মহিলা থেকে শুরু করে তিন বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের জন্য নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বাড়ি পরিদর্শনের ব্যবস্থা রয়েছে।
ECCE শিক্ষাসামগ্রী
৩ থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুদের জন্য শতাধিক ভিডিও, ভয়েস নোট এবং শিক্ষাসামগ্রী ডিজিটালভাবে উপলব্ধ।
আরো পড়ুন : ১৩ মিনিটে মেসির মহাকাব্য! মিশরকে হারিয়ে আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য কামব্যাক
কারা এই পরিষেবার আওতায়?
পোষণ ট্র্যাকারের মাধ্যমে নিম্নলিখিত উপভোক্তাদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য পরিষেবা পর্যবেক্ষণ করা হয়—
- ০–৬ বছর বয়সী শিশু
- অন্তঃসত্ত্বা মহিলা
- স্তন্যদানকারী মা
- কিশোরী
- প্রাক-শৈশব শিক্ষার আওতাভুক্ত শিশু
দেশের কত মানুষ উপকৃত হচ্ছেন?
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত—
- ২৮টি রাজ্য ও ৮টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পোষণ ট্র্যাকার চালু হয়েছে।
- ৮.৯৩ কোটির বেশি উপভোক্তা নথিভুক্ত হয়েছেন।
- ৭.৭ কোটির বেশি শিশুর পুষ্টির তথ্য আধার-যাচাইকরণের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
- ৫.৫ কোটির বেশি উপভোক্তা অন্তত ১৫ দিন সম্পূরক পুষ্টি পেয়েছেন।
- ৫.১৭ কোটি মানুষ ২১ দিনের বেশি সম্পূরক পুষ্টি গ্রহণ করেছেন।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
পোষণ ট্র্যাকার(Poshan Tracker) ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রশংসা অর্জন করেছে।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এটিকে পুষ্টি তথ্য ব্যবস্থাপনার অন্যতম সফল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
- UNICEF অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের জন্য এর সহজ ব্যবহার ও কার্যকারিতার প্রশংসা করেছে।
- ২০২৩ সালের G-20 মহিলা ক্ষমতায়ন সম্মেলনে এই প্ল্যাটফর্ম উপস্থাপিত হয়।
- ২০২৪ সালে জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স পুরস্কারে স্বর্ণ সম্মান লাভ করে।
- ২০২৫ সালে জনপ্রশাসনে উৎকর্ষের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কার অর্জন করে।
উপসংহার
ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে অপুষ্টি মোকাবিলায় পোষণ ট্র্যাকার আজ ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। রিয়েল-টাইম তথ্য, আধুনিক প্রযুক্তি এবং স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থার সমন্বয়ে এই প্ল্যাটফর্ম দেশের শিশু, মা এবং কিশোরীদের পুষ্টি পরিষেবা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ভবিষ্যতে সুপুষ্ট ও উন্নত ভারত গড়ে তুলতেও এই উদ্যোগ বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
