ঝাড়গ্রাম: সম্ভাব্য এল নিনোর প্রভাবে চলতি খরিফ মরশুমে বৃষ্টির অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় দেশের বিভিন্ন রাজ্যের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের উপরও বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। আর সেই প্রেক্ষাপটে বর্ষানির্ভর কৃষিপ্রধান ঝাড়গ্রাম জেলার কৃষকদের মধ্যেও বাড়ছে সতর্কতা।
যদিও গত কয়েক দিনে বৃষ্টির পরিমাণ বেড়েছে, তবুও আগামী কয়েক সপ্তাহের বর্ষার ধারাবাহিকতাই জেলার আমন ধান চাষের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ধারণ করবে।
কেন্দ্রের নজরে পশ্চিমবঙ্গ, কমছে বৃষ্টির ঘাটতি
মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ এবং গ্রামীণ উন্নয়নমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান জানান, জুন মাসে সারা দেশে বৃষ্টির ঘাটতি ৩৩ শতাংশে পৌঁছালেও জুলাই মাসের শুরুতে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
বর্তমানে সেই ঘাটতি কমে ২৪ শতাংশে নেমেছে। একইসঙ্গে বৃষ্টির ঘাটতিগ্রস্ত জেলার সংখ্যাও ২৬২ থেকে কমে ১৭৮-এ এসেছে।
কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যের পরিস্থিতি প্রতি সপ্তাহে পর্যালোচনা করছে।
ঝাড়গ্রামের আমন চাষের জন্য জুলাই কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ঝাড়গ্রামের কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলার অধিকাংশ চাষই বর্ষার জলের উপর নির্ভরশীল।
বিশেষ করে আমন ধানের চারা রোপণের জন্য জুলাই মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বর্ষা স্বাভাবিক থাকলে উৎপাদনে বড় সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বৃষ্টিতে দীর্ঘ বিরতি তৈরি হলে রোপণ বিলম্বিত হওয়ার পাশাপাশি ফলনও কমে যেতে পারে।
সেই কারণেই এখন জেলার কৃষকদের প্রধান ভরসা নিয়মিত বর্ষা।

এল নিনো মোকাবিলায় কেন্দ্রের প্রস্তুতি
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্র এপ্রিল মাস থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছে।
সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত জেলার জন্য ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদের সহায়তায় বিকল্প কৃষি পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।
কৃষকদের কম জলপ্রয়োজনীয় ও স্বল্পমেয়াদি ফসল—যেমন ভুট্টা, বাজরা ও মুগ চাষের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি দেশে প্রায় ১.৭৫ লক্ষ কুইন্টাল বীজ মজুত রাখা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত সরবরাহ করা যায়।
ফসল বীমা ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণে জোর
কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনায় কৃষকদের অংশগ্রহণ বাড়ানো হচ্ছে, যাতে প্রতিকূল আবহাওয়ায় ফসলের ক্ষতি হলে আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।
একইসঙ্গে—
- এল নিনো মনিটরিং সেল
- ক্রপ ওয়েদার ওয়াচ গ্রুপ
- রাজ্যস্তরের কন্ট্রোল রুম
—এর মাধ্যমে মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতি, ফসল বপন এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজরদারি চলছে।
নিম্নচাপের বৃষ্টিতে স্বস্তি, তবু কাটেনি দুশ্চিন্তা
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিনে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে ঝাড়গ্রাম ও সংলগ্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত বেড়েছে এবং আবহাওয়া দফতরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল।
ফলে আপাতত কৃষকদের কিছুটা স্বস্তি মিললেও, এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাবের কারণে গোটা খরিফ মরশুম জুড়েই বর্ষার গতিপ্রকৃতির উপর নিবিড় নজর রাখছে কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি প্রশাসন।
কলমে : সুনীপম মহাকুল
