বৈরুত: মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আবহেই এবার সুর চড়ালেন হিজবুল্লা প্রধান শেখ নইম কাশেম।
লেবানন ছাড়ার দাবি ইজরায়েলের কাছে
বৈরুতের এক জনসভায় দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, ইজরায়েলের সামনে এই মুহূর্তে সমস্ত লেবানিজ ভূখণ্ড ছেড়ে সম্পূর্ণভাবে পাততাড়ি গুটানো ছাড়া দ্বিতীয় কোনও রাস্তা খোলা নেই।
জল, স্থল কিংবা আকাশপথ— সব ধরনের আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে তেল আবিবকে।
(America)’আমেরিকা-ইজরায়েল প্রকল্প ব্যর্থ’— হিজবুল্লা প্রধানের দাবি
ইরানের মদতপুষ্ট এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রধানের দাবি, আমেরিকা(America) ও ইজরায়েলের যৌথ শয়তানি অক্ষ বা ‘ইজরায়েল-আমেরিকান প্রজেক্ট’ মধ্যপ্রাচ্যের মাটিতে কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে।
সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হওয়া একটি সমঝোতাপত্রকে হাতিয়ার করে কাশেমের দাবি, এই চুক্তি আসলে লেবানন ও ইরানের প্রতিরোধের সামনে হোয়াইট হাউস এবং তেল আবিবের এক অফিশিয়াল আত্মসমর্পণের দলিল।

ইরানের ভূমিকায় জোর
আয়াতোল্লা মোজতবা খামেনেইর অনমনীয় নেতৃত্ব এবং ইরানের জনগণের লড়াইয়ের প্রশংসা করে তিনি জানান, ইরান শুধু নিজের ভবিষ্যৎ নয়, বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্য নির্ধারণের মূল কারিগর হয়ে উঠেছে।
সীমান্তে অব্যাহত সংঘর্ষ, আইডিএফের পাল্টা অভিযান
কিন্তু কাশেম যখন বৈরুতের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ইজরায়েলের দর্পচূর্ণের গল্প শোনাচ্ছেন, তখন দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত এলাকায় বাস্তবের মাটিতে ছবিটা বেশ কিছুটা আলাদা।
ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, সিকিউরিটি জোনে কর্তব্যরত জওয়ানদের দিকে হুমকি হয়ে ওঠা ছ’জন হিজবুল্লা যোদ্ধাকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হানা চালিয়ে খতম করেছে তারা।
এর মধ্যে জওতার আল-শারকিয়া এলাকায় পাঁচ জন এবং আলি আল-তাহের শৈলশিরায় এক সশস্ত্র হিজবুল্লা জঙ্গিকে চিহ্নিত করে নিকেশ করা হয়।
অর্থাৎ, বক্তৃতার টেবিলে জয়ের দাবি যতটাই চড়া হোক না কেন, সীমান্তে বারুদের লড়াই যে এখনই থামছে না, তা পরিষ্কার।
(America)ওয়াশিংটনে শান্তি বৈঠকের নেপথ্য কূটনীতি
তবে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সমান্তরালে আমেরিকার ওয়াশিংটনে দুই দেশের রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে এক গোপন কূটনৈতিক মহড়াও চলছে।
আল জাজিরার খবর অনুযায়ী, লেবানন ও ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূতরা সেখানে কিছু পরীক্ষামূলক বা ‘পাইলট জোন’ তৈরির বিষয়ে আলোচনা করছেন, যেখানে ইজরায়েলি ফৌজ সীমান্ত থেকে ধাপে ধাপে পিছিয়ে যাবে এবং সেই জায়গায় লেবাননের সরকারি সেনা মোতায়েন করা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির ভবিষ্যৎ কোন পথে?
এখন দেখার, হিজবুল্লা প্রধানের এই যুদ্ধংদেহী হুঙ্কার আর ওয়াশিংটনের(America) শান্তি বৈঠকের টেবিলে চলা ঠান্ডা লড়াই— এই দুইয়ের নোম্যান্স ল্যান্ডে দাঁড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি অধরাই থেকে যায় কি না।
