WB Budget 2026 : জঙ্গলমহলের স্বপ্ন, সঙ্গে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ; বাজেট বিতর্কে সরব লক্ষ্মীকান্ত
নিজস্ব সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম
“আমি জঙ্গলমহলের সেই কেন্দ্রের জনপ্রতিনিধি, যেখান থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঝালমুড়ির ব্র্যান্ডিং শুরু করেছিলেন।” বিধানসভায় বাজেটের(WB Budget 2026) ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় বক্তব্যের শুরুতেই এ ভাবেই নিজের কেন্দ্র ও জঙ্গলমহলের পরিচয় তুলে ধরলেন ঝাড়গ্রামের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ।
বাজেটে(WB Budget 2026) জঙ্গলমহলের জন্য একাধিক প্রকল্পকে স্বাগত
WB Budget 2026 : নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে(WB Budget 2026) ঝাড়গ্রাম জেলার জন্য একাধিক প্রকল্প ঘোষণার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। জঙ্গলমহলের মানুষের দীর্ঘদিনের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন এই বাজেটে দেখা গিয়েছে।”

আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয়কে ঐতিহাসিক পদক্ষেপের স্বীকৃতি
সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের সিদ্ধান্তকে। তাঁর কথায়, “এটিকে আমরা ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে মনে করি। জনজাতি অধ্যুষিত এই জেলায় উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বহু ছাত্রছাত্রীকে সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় তাদের জন্য নতুন সুযোগ এনে দেবে।”
নতুন মহকুমা গঠন ও শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়নের দাবি
গোপীবল্লভপুর ও নয়াগ্রামকে নিয়ে নতুন মহকুমা গঠনের সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানিয়েছেন তিনি। বিধায়কের দাবি, “প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি নতুন অধ্যায় রচনা করবে।”
শিক্ষাক্ষেত্রে আরও উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “ঝাড়গ্রামে নবোদয় ও কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।” একই সঙ্গে কূর্মালি ভাষা ও সংস্কৃতির সংরক্ষণের জন্য কূর্মি অ্যাকাডেমিতে অর্থ বরাদ্দকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেও উল্লেখ করেন।
টাইগার সাফারি ও কোল্ড স্টোরেজের দাবি
পর্যটনের সম্ভাবনার কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। ঝাড়গ্রাম জিওলজিক্যাল পার্ককে কেন্দ্র করে টাইগার সাফারি তৈরির পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, “এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ঝাড়গ্রামবাসী একশো কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব তৈরি করতে পারবেন। পর্যটনে নতুন গতি আসবে।”
ধর্মপুরে একটি সরকারি কোল্ড স্টোরেজ তৈরির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “তাহলে এলাকার আলু চাষিরা সরাসরি উপকৃত হবেন।”
তৃণমূলের বিরুদ্ধে জমি দখল ও দুর্নীতির অভিযোগ
এর পরেই তৃণমূলকে নিশানা করে তাঁর অভিযোগ, “গত পনেরো বছরে ঝাড়গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় সরকারি জমি দখল করেছে তৃণমূলের নেতারা। অবিলম্বে সেই জমি দখলমুক্ত করা প্রয়োজন।”
তাঁর আরও দাবি, “যাদের এক সময় সাইকেল কেনার সামর্থ্য ছিল না, আজ তাদের অট্টালিকা তৈরি হয়েছে।”
প্রবীণদের বাড়ি দখলের অভিযোগ
বৃদ্ধ মানুষের বাড়ি দখল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে লক্ষ্মীকান্ত বলেন, “কলকাতা থেকে বহু প্রবীণ মানুষ আমার বাড়িতে এসে কেঁদে ফেলছেন। তাঁদের ঘর জোর করে দখল করে রেখেছে তৃণমূলের নেতারা। সেই ঘরগুলি দ্রুত প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়া হোক।”
যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের দাবি
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির দাবিও তোলেন তিনি। মানিকপাড়া কলেজ থেকে সন্ধ্যার পরে ঝাড়গ্রাম শহরে বাস পরিষেবা না থাকার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে পরিবহণমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতারের দাবি
তোলাবাজির অভিযোগ তুলে বিজেপি বিধায়ক বলেন, “জঙ্গলমহলে লোধা ও অন্যান্য আদিবাসী সমাজের মানুষকে ভুল বুঝিয়ে তোলাবাজি করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতার করা হোক।”
জঙ্গলমহলের উন্নয়ন ও হাতি মৃত্যুর তদন্তের দাবি
জঙ্গলমহলে উন্নয়নের অভাবের অভিযোগ এনে তিনি বলেন, “বিগত দিনে জঙ্গলমহলে কোনও উন্নয়ন হয়নি, জঙ্গলমহল কোনও দিন হাসেনি।”
বনমন্ত্রীর বাড়ির সামনে হাতি মৃত্যুর ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিও জানান তিনি।
ডাবল ইঞ্জিন সরকারের পক্ষে সওয়াল
বক্তব্যের শেষে কেন্দ্র ও রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের আশাবাদ ব্যক্ত করে লক্ষ্মীকান্ত বলেন, “ডাবল ইঞ্জিন সরকারের হাত ধরেই জঙ্গলমহলে প্রকৃত উন্নয়ন হবে। টাইগার সাফারি, পর্যটনের বিকাশ এবং ট্রাইবাল ইউনিভার্সিটির মাধ্যমে আদিবাসী সমাজের শিক্ষার উন্নতি ঘটবে।”
রাজনৈতিক অভিযোগ, উন্নয়নের প্রত্যাশা এবং জঙ্গলমহলের ভবিষ্যৎ— সব মিলিয়ে বাজেট(WB Budget 2026) বিতর্কে ঝাড়গ্রামকে কেন্দ্র করেই নিজের বক্তব্য সাজালেন বিজেপি বিধায়ক।
