Mysterious death while working in Dubai : দুবাইতে কাজ করতে গিয়ে রহস্য মৃত্যু যুবকের।

Mysterious death while working in Dubai : পরিবারের একমাত্র ছেলের মৃতদেহ পাওয়ার জন্য উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন পরিজনেরা। মৃত্যুর এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো মৃতদেহ নিয়ে আসার বিষয়ে হেলদোল নেই সরকারের। এমনই এক দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন কেশিয়াড়ির একটি পরিবার। মৃতের নাম রাহুল কান্তি ঘোড়াই। বয়স ৩৩ বছর।
দুবাইয়ে একটি প্রাইভেট সংস্থায় কর্মরত ছিলেন রাহুল। মৃত্যুর কারণ নিয়ে চরম ধোঁয়াশা রয়েছে।
এবিষয়ে আন্তর্জাতিক স্তরেও কোন হেলদোল নেই বলে জানা গিয়েছে।
২০১৪ সালে ওয়েল্ডিং এর কাজে দুবাই যান

বেসরকারি সংস্থায় আইটিআই পাস করার পর ২০১৪ সালে ওয়েল্ডিং এর কাজে দুবাই যান। প্রথমে দুবাইয়ের একটি বড় কনস্ট্রাকশন সংস্থা- বি.কে গাল্ফ এলএলসি তে কর্মরত ছিলেন রাহুল। কয়েক বছর আগে সেই কোম্পানি থেকে অন্য একটি সংস্থায় কাজে যোগ দেন। প্রথম প্রথম পরিবারকে টাকা পাঠাতেন রাহুল। গত পাঁচ বছর থেকে সেটাও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। রাহুলের বাবা রতন ঘোড়াই এই নিয়ে সন্তানের সাথে আলোচনা করলে তিনি জানাতেন যে বেশ কিছু টাকা কোন একটি সংস্থায় ইনভেস্ট করেছেন তাই টাকা পাঠাতে পারছিলেন না। পরে পরিবারকে জানিয়েছিলেন খুব শীঘ্রই এই সমস্যার সমাধান করে কিছু একটা সিদ্ধান্ত নেবেন।
বিগত সাত বছর দুবাই থেকে বাড়ি আসেননি রাহুল

কিন্তু চার বছর হয়ে গেলও রাহুলের কাছ থেকে তেমন একটা সুখবর পায়নি পরিবার। বিগত সাত বছর হল দুবাই থেকে একবারের জন্য বাড়ি আসেননি রাহুল। এই নিয়ে রাহুলের পরিবার খুবই চিন্তিত ছিল। এরপর গত ৪ঠা এপ্রিল দুবাইয়ের কনসুলেট জেনারেল অফ ইন্ডিয়া অর্থাৎ দুবাইয়ে অবস্থিত ভারতের মুখ্য দূতাবাস থেকে রাহুলের বাবা রতন ঘোড়াইর কাছে ফোন আসে তার সন্তান আর নেই। পুলিশ মারফত তারা যা খবর পেয়েছেন সেটাই জানিয়েছেন মাত্র। তবে কিভাবে মৃত্যু হল, কবেই বা মৃত্যু হল এ বিষয়ে কোন তথ্য জানানো হয়নি রাহুলের পরিবারকে। রাহুলের মৃত্যুর খবর পেয়েই মাথায় কার্যত বাজ পড়েছে পরিবারের। সবাই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছেন। তবে একমাত্র সন্তানকে বাড়িতে এনে দাহ করার জন্য সচেষ্ট হন তাঁরা।
যাদের মাধ্যমে গিয়েছিলেন, তাঁরাও সহযোগিতা করছেন না
Mysterious death while working in Dubai : যাঁদের মাধ্যমে রাহুল গিয়েছিলেন তাঁরাও তেমন একটা সহযোগিতা করছেন না। এখন, বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করে শেষমেষ ১১ই এপ্রিল বৃহস্পতিবার একটি ভয়েস মেল করা হয় যে বডি নিয়ে আসার জন্য ভারতীয় দূতাবাস সচেষ্ট হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই বডি নিয়ে আসার তোড়জোড় শুরু হবে।
একটি সূত্র আরো জানাচ্ছে দুবাইয়ে এখন ঈদ উপলক্ষে চলছে টানা ছুটি।
Mysterious death while working in Dubai : মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশায় পরিবার

Mysterious death while working in Dubai : এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত মৃতদেহ রওনা হয়নি দুবাই থেকে। একমাত্র সন্তানের এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা। কি কারনে রাহুলের মৃত্যু হল সেটা পরিষ্কার নয়। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে whatsapp এর মাধ্যমে কথা হত মাঝেমধ্যে। এবছর পূজোর আগে পাকাপাকিভাবে দেশে ফেরার চিন্তাও ছিল তাঁর। আগে শারীরিক অসুবিধার কথা জানাতেন পরিবারকে। শরীর খারাপ হলে নিশ্চয়ই জানাতেন পরিবারকে।
হঠাৎ রাহুলের মৃত্যুর খবরে হতচকিত পরিবার
হঠাৎ রাহুলের মৃত্যুর খবরে হতচকিত পরিবার। অসুস্থ মাকে একমাত্র সন্তানের মৃত্যুর খবরও এখনো জানানো হয়নি। পরিবারের এক সদস্য জানান ‘রাহুল একটু চাপা স্বভাবের ছিল। কিছু হলে তড়িঘড়ি জানাতো না সে, কয়েক বছর সে একটু সমস্যায় ছিল তা স্পষ্ট তার কথাবার্তা তে বোঝা যেত শুধু, কিন্তু খোলসা করে বলতো না ।
শেষমেশ রাহুল কোথায় থাকতো বা কোন কোম্পানিতে কাজ করতো সেটাও জানায়নি। কর্মসূত্রে পাওয়া ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং টুরিস্ট ভিসা চালু করেছিল এটুকু জানা গেছে।

একমাত্র ছেলেকে শেষ দেখা দেখতে চান বাবা-মা
দুবাইতে থাকাকালীন একটি ভিডিও পাঠিয়েছিল রাহুল, যেখানে দেখা গেছে শুভ্র পোশাকে সনাতনী বেশে দুবাইয়ের একটি মন্দিরে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালনে নৃত্য করতে।’ সেটাই একমাত্র ছবি কয়েক মাস আগে পাঠানো। ১১ই মার্চ পরিবারের সঙ্গে শেষ কথা হয় তার আর ঠিক এক মাস পর রাহুলের এই খবর পাওয়া মাত্র বাবা রতন ঘোড়াই পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়েছেন। চরম অসহায় এই পরিবারের এখন একমাত্র আশা শেষবারের জন্য একবার রাহুলকে তাঁরা দেখতে চান। যদিও এই টুকু আশা তাঁদের পূরণ হবে কী?
