সুবর্ণরেখা-র ভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শনে কৃষি প্রতিমন্ত্রী
নয়াগ্রাম: সুবর্ণরেখা নদীর লাগাতার ভাঙনে বিপর্যস্ত নয়াগ্রাম ব্লকের একাধিক এলাকা পরিদর্শন করলেন রাজ্যের কৃষি প্রতিমন্ত্রী অমিয় কিস্কু। শুক্রবার নরসিংহপুর, শুকদেবপুর, যাদবপুর, মলম-সহ ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলি ঘুরে দেখেন তিনি। নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়া কৃষিজমি, ভাঙনের মুখে থাকা বসতবাড়ি এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

বর্ষার পর স্থায়ী নদীবাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা
পরিদর্শনের পর কৃষি প্রতিমন্ত্রী অমিয় কিস্কু জানান, অতীতে নদীভাঙন রোধে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল। বর্ষা শেষ হলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে বৃহৎ প্রকল্পের মাধ্যমে স্থায়ী নদীবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বর্তমানে যে কৃষিজমি ও বসতবাড়িগুলি ভাঙনের হাত থেকে এখনও রক্ষা করা সম্ভব, সেগুলি সুরক্ষিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

দীর্ঘদিনের সমস্যায় ক্ষোভ, নতুন আশার আলো দেখছেন বাসিন্দারা
মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত প্রবীর প্রধান ও দিলীপ ঘোষ বলেন, বছরের পর বছর সুবর্ণরেখার ভাঙনে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বহু উর্বর কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। এবার কৃষি প্রতিমন্ত্রী সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখে মানুষের কথা শুনেছেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

১৫ বছরের প্রতিশ্রুতি, সমাধান এখনও অধরা
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত ১৫ বছরে বহু জনপ্রতিনিধি ও মন্ত্রী এলাকা পরিদর্শন করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রতিশ্রুতির মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থেকেছে। কিন্তু নদীভাঙন থামেনি। বছরের পর বছর একের পর এক কৃষিজমি ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ায় বহু পরিবার জীবিকা হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি: দ্রুত স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন
স্থানীয় বাসিন্দা তাপস মহাপাত্র বলেন, দ্রুত স্থায়ী নদীবাঁধ নির্মাণ করা না হলে আগামী দিনে আরও বহু পরিবারকে এলাকা ছাড়তে হতে পারে। এর পাশাপাশি হাতির উপদ্রবও এলাকার মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
অন্যদিকে, অসিত মহাপাত্র বলেন, কয়েক দশক ধরে নদীভাঙন এই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান সমস্যা। বহুবার প্রতিশ্রুতি মিললেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। তাই সরকারের কাছে তাঁদের একটাই আবেদন—যত দ্রুত সম্ভব স্থায়ী নদীবাঁধ নির্মাণ করে কৃষিজমি, বসতবাড়ি এবং মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষা করা হোক।

সরকারের আশ্বাস

ক্ষতিগ্রস্তদের সমস্ত অভিযোগ ও আবেদন মন দিয়ে শোনার পর কৃষি প্রতিমন্ত্রী অমিয় কিস্কু ফের আশ্বস্ত করেন, সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। আপাতত জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বর্ষা শেষে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে বৃহৎ প্রকল্পের মাধ্যমে সুবর্ণরেখার ভাঙনের স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

