কেলেঘাই নদীর বন্যা পরিস্থিতি
কেলেঘাই নদীর বন্যা পরিস্থিতি, জলনিকাশি ব্যবস্থা এবং নদীর বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে পটাশপুরে এলেন পৌর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। মঙ্গলবার পটাশপুর থানার আমগাছিয়া বাংলোয় পৌঁছে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। টানা বৃষ্টি ও নদীর জলস্তর বৃদ্ধির জেরে এলাকার কোথায় কী ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন মন্ত্রী।

আমগাছিয়া বাংলোয় মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। একাধিক এলাকা জলবন্দি হয়ে পড়া, জল দ্রুত নামতে না চাওয়া, জলনিকাশি ব্যবস্থার সমস্যা এবং কেলেঘাই নদীর জলস্তর বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা। স্থানীয়দের বক্তব্য মন দিয়ে শোনার পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের তরফে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়েও খোঁজ নেন অগ্নিমিত্রা পাল।

তবে এদিনের সফরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় কেলেঘাই নদী দখল ও নদীর জায়গায় অবৈধ নির্মাণের বিষয়টি। নদীর স্বাভাবিক গতিপথে কোথাও বাধা তৈরি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে জলনিকাশি ও বন্যা পরিস্থিতির উপর—এমনটাই মনে করছে প্রশাসন। সেই কারণেই নদী দখল করে তৈরি হওয়া অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে এবার কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিলেন মন্ত্রী।
অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কেলেঘাই নদী দখল করে যেসব অবৈধ নির্মাণ গড়ে উঠেছে, সেগুলি দ্রুত সরিয়ে নিতে হবে। প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে নির্মাণ রেখে দেওয়া হলে প্রয়োজনে বুলডোজার চালিয়ে সেগুলি ভেঙে দেওয়া হবে। নদীর জায়গা দখল করে কোনও নির্মাণকেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলেও কার্যত হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, নদীর স্বাভাবিক জলপ্রবাহ কোনওভাবেই বাধাগ্রস্ত হতে দেওয়া যাবে না। নদীর গতিপথ সংকুচিত হয়ে গেলে বা জল বেরনোর পথ বাধাপ্রাপ্ত হলে অতিবৃষ্টির সময়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। তাই বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং জলনিকাশি ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে কেলেঘাই নদীকে দখলমুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি বলে জানান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্ষার সময়ে কেলেঘাই নদীর জলস্তর বাড়লে একাধিক এলাকায় জল জমে যায়। জল দ্রুত বেরিয়ে যেতে না পারায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। বাড়িঘর, রাস্তা এবং দৈনন্দিন যাতায়াতেও সমস্যা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখার পাশাপাশি জলনিকাশি ব্যবস্থার উন্নতির দাবি দীর্ঘদিনের।

এদিন স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁদের সমস্যাগুলি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন মন্ত্রী। বন্যা পরিস্থিতির উপর প্রশাসনের নজর রয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি নদী দখল ও অবৈধ নির্মাণের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার কথা বলেন।

মন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পর কেলেঘাই নদী সংলগ্ন এলাকায় নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রশাসন এবার সত্যিই নদী দখলমুক্ত করতে কতটা কঠোর পদক্ষেপ নেয়, তা নিয়ে নজর রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। অবৈধ নির্মাণ সরানোর ক্ষেত্রে আগামী দিনে প্রশাসনের অভিযান কতটা জোরদার হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে পটাশপুরবাসী।
