নয়াগ্রাম: টানা বৃষ্টির জেরে ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রামে ফের ঘটল দুর্ঘটনা। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে আচমকাই একটি মাটির দেওয়াল ধসে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছে তিন শিশু। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ছড়িয়েছে আতঙ্ক। বর্ষাকালে দুর্বল মাটির বাড়ি ও দেওয়াল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
দেউলবাড় গ্রামে আচমকা ধসে পড়ল মাটির দেওয়াল
ঘটনাটি ঘটেছে নয়াগ্রামের দেউলবাড় গ্রামে। জানা গিয়েছে, অজিত পাত্র নামে এক ব্যক্তির বাড়ির মাটির দেওয়াল আচমকাই ভেঙে পড়ে। সেই সময় বাড়ির পাশেই খেলছিল তিন শিশু। আচমকা দেওয়াল ধসে পড়ায় তিন শিশুই তার নীচে চাপা পড়ে যায়।
দুর্ঘটনায় আহত তিন শিশুর নাম অনিমেষ নায়েক, সমদ্রিতা নায়েক এবং অমিত নায়েক।

স্থানীয়দের তৎপরতায় উদ্ধার তিন শিশু
দেওয়াল ধসে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তাঁদের তৎপরতায় ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে তিন শিশুকেই উদ্ধার করা হয়। এরপর আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অমিত নায়েক গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় নয়াগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে অনিমেষ নায়েক ও সমদ্রিতা নায়েক বর্তমানে সুস্থ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

বর্ষার আগেই বাড়ি নিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল, দাবি স্থানীয়দের
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ওই বাড়িটির মাটির দেওয়াল দীর্ঘদিন ধরেই বিপজ্জনক অবস্থায় ছিল। বর্ষা শুরু হওয়ার আগে বাড়িটি ভেঙে ফেলার জন্য সতর্কও করা হয়েছিল বলে দাবি তাঁদের।
তবে তার আগেই টানা বৃষ্টির মধ্যে আচমকা মাটির দেওয়ালটি ধসে পড়ে। আর সেই সময় বাড়ির পাশে থাকা তিন শিশু দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পৌঁছন বিডিও
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন নয়াগ্রাম বিডিও শান্তনু সরকার। প্রথমে তিনি নয়াগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে গিয়ে আহত শিশুদের চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
এরপর তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে গোটা ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন।
বর্ষার পরিস্থিতি এবং এলাকায় বিপজ্জনক অবস্থায় থাকা বাড়ি ও দুর্বল মাটির দেওয়াল নিয়েও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন বিডিও।

বর্ষায় দুর্বল বাড়ি নিয়ে সতর্কতার বার্তা
এই ঘটনাকে ঘিরে নয়াগ্রামে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে মাটির বাড়ি, পুরনো দেওয়াল ও দুর্বল নির্মাণগুলির ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
বিপজ্জনক অবস্থায় থাকা বাড়ি বা দেওয়ালের আশপাশে শিশুদের যেতে না দেওয়া এবং দ্রুত প্রশাসনকে বিষয়টি জানানোর আবেদন জানানো হয়েছে।

নয়াগ্রাম থেকে জয়দেব ভক্তা’র রিপোর্ট, সানন্দা নিউজ।

