মৌসুমী বায়ু : কয়েক দিনের বিরতির পর ফের জোরালো বর্ষার প্রত্যাবর্তন। উত্তর ও পূর্ব ভারতে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা বৃদ্ধি, উপগ্রহ চিত্রে সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর স্পষ্ট ইঙ্গিত।

কয়েক দিনের গুমোট গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার পর ফের শক্তিশালী হয়ে উঠেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। সাম্প্রতিক উপগ্রহ চিত্রে দেখা যাচ্ছে, ভারতের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ এলাকা ঘন বর্ষণকারী মেঘে আচ্ছন্ন। আবহাওয়াবিদদের মতে, এটি মৌসুমী বায়ুর পুনরুজ্জীবনের স্পষ্ট লক্ষণ এবং আগামী কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
গত ৯ জুলাই বর্ষা দেশের সর্বত্র পৌঁছে গেলেও, ১১ জুলাইয়ের উপগ্রহ চিত্রে ভারতের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকা মেঘহীন হয়ে পড়েছিল। ফলে বহু রাজ্যে বৃষ্টির গতি হঠাৎ কমে যায় এবং গুমোট গরমে ভোগান্তি বাড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট একটি শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় বায়ুমণ্ডলের বিপুল জলীয় বাষ্প ও শক্তি নিজের দিকে টেনে নেওয়ায় মৌসুমী অক্ষরেখা দুর্বল হয়ে পড়ে। এর প্রভাবেই দেশের বিভিন্ন অংশে কয়েক দিনের জন্য বৃষ্টিপাত কমে গিয়েছিল।

এ বছরের শুরুতে, জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে কেরলে বর্ষা প্রবেশ করলেও দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দেয়। সেই সময়ে সার্বিক বৃষ্টির ঘাটতি প্রায় ৪০ থেকে ৪৬ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। তবে জুনের শেষভাগ এবং জুলাইয়ের শুরুতে একাধিক ভারী বর্ষণের ফলে পরিস্থিতির উন্নতি হয় এবং বর্তমানে সামগ্রিক ঘাটতি কমে প্রায় ১৪ শতাংশে নেমে এসেছে।
বর্তমানে উত্তর ভারত, পূর্ব ভারত এবং মধ্য ভারতের একাধিক অঞ্চলে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। উপগ্রহ চিত্রেও বিস্তীর্ণ মেঘমালার উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে, যা মৌসুমী বায়ুর সক্রিয় অবস্থারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, প্রশান্ত মহাসাগরের এল নিনো পরিস্থিতির ওপর এখনও নজর রাখা হচ্ছে। তবে বর্তমান আবহাওয়ার ধারা বজায় থাকলে আগামী কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন অংশে আরও বৃষ্টিপাত হতে পারে এবং দীর্ঘদিনের আর্দ্র গরম থেকে স্বস্তি মিলবে।
কলমে : সুনীপম মহাকুল
