কেন্দ্রের উদ্যোগে দীঘা, মন্দারমণি ও তাজপুরের সমুদ্রসৈকতেও জোরদার পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জনসচেতনতা ও পরিবেশ সংরক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব
পূর্ব মেদিনীপুর: দেশের উপকূলীয় পরিবেশকে আরও পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ করে তুলতে আগামী ১০ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত দেশজুড়ে পালিত হবে ‘স্বচ্ছ সাগর, সুরক্ষিত সাগর’ (Swachh Sagar, Surakshit Sagar) মেগা উপকূল পরিচ্ছন্নতা অভিযান। কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে চলেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দীঘা, মন্দারমণি, তাজপুর-সহ একাধিক সমুদ্রসৈকত।

‘স্বচ্ছ সাগর, সুরক্ষিত সাগর’ : নয়াদিল্লিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, জোর প্রস্তুতি কেন্দ্রের
‘স্বচ্ছ সাগর, সুরক্ষিত সাগর’ এই দেশব্যাপী কর্মসূচিকে সফল করতে সম্প্রতি নয়াদিল্লির সিএসআইআর-সায়েন্স সেন্টারে কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ডঃ জিতেন্দ্র সিং-এর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দেশের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং উপকূলবর্তী এলাকায় জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বিশেষভাবে পূর্ব মেদিনীপুরের মতো উপকূলীয় জেলায় স্থানীয় মানুষ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসনের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
প্রযুক্তি, জনসম্পৃক্ততা ও সমন্বিত উদ্যোগে জোর
বৈঠকে ডঃ জিতেন্দ্র সিং বলেন, দেশের বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে আলাদা আলাদাভাবে নয়, বরং একটি সমন্বিত ইকোসিস্টেম হিসেবে কাজ করতে হবে। উপকূল সংরক্ষণ, পরিবেশ রক্ষা এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযানে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, জনসচেতনতা এবং আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতাই হবে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
মন্ত্রকের মতে, বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় ও যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে গবেষণা ও উদ্ভাবনের সুফল দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
উপস্থিত ছিলেন শীর্ষ বৈজ্ঞানিক ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা
এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অ্যাডভাইজার প্রফেসর অজয় কুমার সুদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তরের সচিব প্রফেসর উমেশ ভি. ওয়াঘমারে, বায়োটেকনোলজি দপ্তরের সচিব ডঃ রাজেশ এস. গোখলে, সিএসআইআর ও আর্থ সায়েন্সেস মন্ত্রকের সচিব ডঃ এন. কালাইসেলভি-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিক।
বিজ্ঞানকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা
উপকূল পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি বৈঠকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের বিভিন্ন প্রকল্পকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার রূপরেখাও তৈরি হয়েছে।
ভিডিও, তথ্যচিত্র, ইনফোগ্রাফিক্স, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং সাফল্যের কাহিনির মাধ্যমে বিজ্ঞানভিত্তিক প্রচার আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তর ইতিমধ্যেই অনুসন্ধান ন্যাশনাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ANRF), ন্যাশনাল কোয়ান্টাম মিশন-সহ একাধিক জাতীয় প্রকল্পের জন্য বিশেষ প্রচার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
অন্যদিকে, সিএসআইআর তাদের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে গত এক দশকের বৈজ্ঞানিক সাফল্যের উপর একটি বিশেষ প্রকাশনা প্রকাশ করবে এবং ‘Innovation in Action’ লেকচার সিরিজের মাধ্যমে গবেষণার সাফল্য তুলে ধরবে।
ডিবিটি কোয়েস্ট ও গবেষণার তথ্য আরও সহজলভ্য করার উদ্যোগ
বায়োটেকনোলজি দপ্তর জনস্বাস্থ্য, কৃষি জৈবপ্রযুক্তি এবং বায়োইকোনমি সংক্রান্ত গবেষণার সাফল্য তুলে ধরতে ‘DBT Quest’ কর্মসূচি চালু করেছে। পাশাপাশি গবেষণার তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজে পৌঁছে দিতে ANRF-এর অধীনে ‘সরল AI’ প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
‘স্বচ্ছ সাগর, সুরক্ষিত সাগর’ : পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলের জন্য ইতিবাচক বার্তা
বৈঠকের শেষে ESTIC-2026, India International Science Festival 2026 এবং National Space Day 2026-এর প্রস্তুতিও পর্যালোচনা করা হয়।
ডঃ জিতেন্দ্র সিং জানান, ভারতের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির সঙ্গে জনসাধারণের সক্রিয় অংশগ্রহণকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই ‘স্বচ্ছ সাগর, সুরক্ষিত সাগর’ অভিযানের মতো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এই কর্মসূচি সফল হলে পূর্ব মেদিনীপুরের দীঘা, মন্দারমণি, তাজপুর-সহ সমগ্র উপকূলীয় এলাকার পরিবেশ সংরক্ষণ, পর্যটন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
কলমে : সুনীপম মহাকুল
